Pitara logo

কলাবতী রাজকন্যা - (8) - (৫)

(8)

রাজপুরীতে আসিয়া ভূতুম আর বুদ্ধু অবাক!- মস্ত মস্ত দালান; হাতী, ঘােড়া, সিপাই, লস্কর কত কি!

দেখিয়া তাহারা ভাবিল- “বা! তবে আমরা বকুল গাছে থাকি কেন? মায়েরাই বা কুঁড়েয় থাকে কেন?” ভাবিয়া তাহারা বলিল, – “ও ভাই রাজপুত্র, আমাদিগকে আনিয়াছ তাে, মাদিগেকেও আন।”

রাজপুত্রেরা দেখিলেন, “বাঃ! ইহারা তাে মানুষের মতাে কথা কয়! তখন বলিলেন- “বেশ বেশ তােদের মায়েরা কোথায় বল; আনিয়া চিড়িয়াখানায় রাখিব।”

ভূতুম বলিল, “চিড়িয়াখানার বাঁদী আমার মা।”

বুদ্ধু বলিল, – “খুঁটে-কুড়ানী দাসী আমার মা!” শুনিয়া রাজপুত্রেরা হাসিয়া উঠিলেন -

“মানুষের পেটে আবার পেঁচা হয়!”
“মানুষের পেটে আবার বানর হয়!”

ছােটরাণী আর ন-রাণীর কথা, রাজপুত্রেরা কিনা জানিতেন না, একজন সিপাই ছিল, সে বলিল,– “হইবে না কেন? আমাদের দুই রাণী ছিলেন, তাঁহাদের পেটে পেঁচা আর বানর হইয়াছিল। রাজা সেইজন্য তাঁহাদিগে খেদাইয়া দেন। ইহারাই সেই পেঁচা আর বানর পুত্র।”

শুনিয়া রাজপুত্রেরা “ছি, ছি!” করিয়া উঠিলেন। তখনই খাঁচার । উপর লাথি মারিয়া, রাজপুত্রেরা সিপাই- লস্করকে বলিলেন- “এই দুইটাকে খেদাইয়া দাও।” বলিয়া রাজ্যের ছেলেরা পক্ষিরাজে চড়িয়া বেড়াইতে চলিয়া গেলেন।

ভূতুম আর বুদ্ধু জানিল, তাহারাও রাজার ছেলে! ভূতুমের মা বাঁদী নয়, বুদ্ধুর মা দাসী নয়। তখন বুষ্টু বলিল, “দাদা, চল আমরা বাবার কাছে যাইব।”

ভূতুম বলিল, “চল।”

(৫)

সােনার খাটে গা, রূপার খাটে পা রাখিয়া রাজপুরীর মধ্যে, পাঁচ রাণীতে বসিয়া সিঁথিপাটি করিতেছিলেন। এক দাসী আসিয়া খবর দিল, নদীর ঘাটে যে, শুকপঙ্খী নৌকা আসিয়াছে, তাহার রূপার বৈঠা, হীরার হাল। নায়ের মধ্যে মেঘ-বরণ চুল কুঁচবরণ কন্যা। বসিয়া সােনার শুকের সঙ্গে কথা কহিতেছে।

অমনি নদীর ঘাটে পাহারা বসিল; রাণীরা উঠেন-কি-পড়েন, কে আগে কে পাছে; শুকপঙ্খী নায়ে কুঁচবরণ কন্যা দেখিতে চলিলেন।

তখন শুকপঙ্খী নায়ে পাল উড়িয়াছে; শুকপঙ্খী তরতর করিয়া ছুটিয়াছে। রাণীরা বলিলেন—

“কুঁচবরণ কন্যা মেঘ-বরণ চুল।
নিয়া যাও কন্যা মােতির ফুল।”

শুকপঙ্খী নৌকা অনেক দূরে চলিয়া গেল। নৌকা হইতে কুঁচবরণ কন্যা বলিলেন,–

“মােতির ফুল মােতির ফুল সে বড় দূর,
তােমার পুত্র পাঠাইও কলাবতীর পুর।
হাটের সওদা ঢােল- ডগরে, গাছের পাতে ফল।
তিন বুড়ির রাজ্য ছেড়ে রাঙ্গা নদীর জল।”

বলিতে, বলিতে, শুকপঙ্খী নৌকা অনেক দূর চলিয়া গেল। রাণীরা সকলে বলিলেন—

“কোন দেশের রাজকন্যা কোন দেশে ঘর?
সােনার চাঁদ ছেলে আমার তােমার বর।”

তখন শুকপঙ্খী আরও অনেক দূর চলিয়া গিয়াছে; কুঁচ-বরণ কন্যা উত্তর করিলেন,–

“কলাবতী রাজকন্যা মেঘ-বরণ কেশ,
তােমার পুত্র পাঠাইও কলাবতীর দেশ।
আনতে পারে মােতির ফুল ঢােল-ডগর,
সেই পুত্রের বাঁদী হয়ে আসব তােমার ঘর।”

শুকপঙ্খী আর দেখা গেল না। রাণীরা অমনি ছেলেদের কাছে খবর পাঠাইলেন। ছেলেরা পক্ষিরাজ ছুটাইয়া বাড়িতে আসিল।

রাজা সকল কথা শুনিয়া ময়ূরপঙ্খী সাজাইতে হুকুম দিলেন। হুকুম দিয়া, রাজা, রাজসভায় দরবার করিতে গেলেন।

কলাবতী রাজকন্যা - (৬) - (৭)