Pitara logo

কলাবতী রাজকন্যা - (১)

এক যে, রাজা। রাজার সাত রাণী।-বড়রাণী, মেজরাণী, সেজরাণী, ন-রাণী, কনেরাণী, দুয়ােরাণী, আর ছােটরাণী।

রাজার মস্ত বড় রাজ্য; প্রকাণ্ড রাজবাড়ী। হাতীশালে হাতী ঘােড়াশালে ঘােড়া, ভাণ্ডারে মাণিক, কুঠরীভরা মােহর, রাজার সব ছিল। এ ছাড়া, মন্ত্রী, অমাত্য, সিপাই, লস্করে, – রাজপুরী গমগম করিত।

কিন্তু, রাজার মনে সুখ ছিল না। সাত রাণী, এক রাণীরও সন্তান হইল না। রাজা, রাজ্যের সকলে, মনের দুঃখে দিন কাটেন।

একদিন রাণীরা নদীর ঘাটে স্নান করিতে গিয়াছেন, এমন সময়, এক সন্ন্যাসী যে, বড়রাণীর হাতে একটি গাছের শিকড় দিয়া বলিলেন, - “এইটি বাটিয়া সাত রাণীতে খাইও, সােনার চাঁদ ছেলে হইবে।”

রাণীরা, মনের আনন্দে তাড়াতাড়ি স্নান করিয়া আসিয়া, কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া, গা- মাথা শুকাইয়া, সকলে পাকশালে গেলেন। আজ বড়রাণী ভাত রাঁধিবেন, মেজরাণী তরকারি কাটিবেন, সেজরাণী ব্যঞ্জন রাঁধিবেন, ন- রাণী জল তুলিবেন, কনেরাণী যােগান দিবেন, দুয়ােরাণী বাটনা বাটিবেন, আর ছােটরাণী মাছ কুটিবেন। পাঁচ রাণী পাকশালে রহিলেন; ন-রাণী কূয়াের পাড়ে গেলেন, ছােটরাণী পাঁশগাদার পাশে মাছে কুটিতে বসিলেন।

সন্ন্যাসীর শিকড়টি বড়রাণীর কাছে। বড়রাণী দুয়ােরাণীকে ডাকিয়া বলিলেন, – “বােন, তুই বাটনা বাটিবি, শিকড়টি আগে বাটিয়া দে না সকলে একটু একটু খাই।”

দুয়ােরাণী শিকড় বাটিতে বাটিতে কতটুকু নিজে খাইয়া ফেলিলেন। তাহার পর, রূপার থালে সােনার বাটি দিয়া ঢাকিয়া, বড়রাণীর কাছে দিলেন। বড়রাণী ঢাকনা খুলিতেই আর কতকটা । খাইয়া মেজরাণীর হাতে দিলেন। মেজরাণী খানিকটা খাইয়া, সেজরাণীকে দিলেন। সেজরাণী কিছু খাইয়া, কনেরাণীকে দিলেন। কনেরাণী বাকীটুকু খাইয়া ফেলিলেন। ন-রাণী আসিয়া দেখেন, বাটিতে একটু তলানী পড়িয়া আছে। তিনি তাহাই খাইলেন। ছােটরাণীর জন্য আর কিছুই রহিল না।

মাছ কোটা হইলে, ছােটরাণী উঠিলেন। পথে ন-রাণীর সঙ্গে দেখা হইল। ন- রাণী বলিলেন, “ও অভাগি! তুই তাে শিকড়বাটা খাইলি না?- যা, যা, শীগগির যা।” ছােটরাণী আকুলি ব্যাকুলি করিয়া ছুটিয়া আসিলেন; আসিয়া দেখিলেন, শিকড়বাটা একটুকুও নাই। দেখিয়া ছােটরাণী, আছাড় খাইয়া মাটিতে পড়িলেন।

তখন পাঁচ রাণীর এ-র দোষ ও দেয়; ও-র দোষ এ দেয়। এই রকম করিয়া সকলে মিলিয়া গােলমাল করিতে লাগিলেন।

ছােটরাণী আছাড় খাইযা মাটিতে পড়িলেন

ছােটরাণীর হাতের মাছ আঙ্গিনায় গড়াগড়ি গেল, চোখের জলে আঙ্গিনা ভাসিল। একটু পরে ন-রাণী আসিলেন। তিনি বলিলেন, “ওমা! ওর জন্য কি তােরা কিছুই রাখিস্ নাই? কেমন লাে তােরা! চল্ বােন ছােটরাণী, শিল- নােড়াতে যদি একাধটুকু লাগিয়া থাকে, তাই তােকে, ধুইয়া খাওয়াই। ঈশ্বর করেন তাে, উহাতেই তাের সােনার চাঁদ ছেলে হইবে।”

অন্য রাণীরা বলিলেন, “তা ‘ই তাে, তাই তাে, শিল নােড়ায় আছে, তাই ধুইয়া দেও।”মনে মনে বলিলেন, “শিল ধােয়া জল খাইলে- সােনার চাঁদ না তাে বানর চাঁদ ছেলে হইবে।”

ছােটরাণী কাঁদিয়া- কাটিয়া শিল- ধােয়া জলটুকুই খাইলেন। তার পর, ন-রাণীতে ছােটরাণীতে ভাগাভাগি করিয়া জল আনিতে গেলেন। আর-রাণীরা নানাকথা বলাবলি করিতে লাগিলেন।

কলাবতী রাজকন্যা - (২) - (৩)